পরিবারে সবার খাবারের খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের পাতে কী থাকছে, সেটাই ভুলে যান নারীরা। অথচ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের নানা পরিবর্তন আসে। হরমোনের ওঠানামা থেকে শুরু করে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া- প্রতিটি পর্যায়েই শরীরের প্রয়োজন বদলায়। তাই শুধু মেনোপজের পরে নয়, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
পুষ্টিবিদ রাখি চট্টোপাধ্যায়ের মতে, খাদ্যভ্যাসে অনেক নারীরই প্রোটিনের ঘাটতি থাকে। অথচ নারীদের সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নারীর প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ০ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন নারীর দৈনিক প্রায় ৪৫ গ্রাম প্রোটিনের দরকার।
তবে বয়সের সঙ্গে শুধু প্রোটিন নয়, শরীরে প্রয়োজন হয় আরো নানা পুষ্টির। জেনে নিন কোন বয়সে কোন খাবারে বেশি গুরুত্ব দেবেন।
বয়ঃসন্ধিতে আয়রন ও ক্যালসিয়াম জরুরি
৯ থেকে ১৮ বছর বয়সে মেয়েদের শরীরে দ্রুত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে। শুরু হয় ঋতুস্রাবও। এ সময়ে শরীরের বৃদ্ধি ও হাড়ের গঠনের জন্য আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ।
তাই এ বয়সে ডিম, মাছ, দুধ, দই,ডাল, বাদাম’ শাকসবজি এবং বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন।
১৯ থেকে ৪৫- প্রোটিনের পাশাপাশি নজর দিন আয়রনে
এই সময়ে কাজের চাপ, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন প্রভাব পড়তে পারে শরীরেও। অনেকের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই সময়ে প্রোটিনের পাশাপাশি আয়রন, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিডের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। বিশেষ করে গর্ভাস্থায় পুষ্টির চাহিদা আরো বেড়ে যায়।
৪৫ বছরের পর কম ক্যালরি, বেশি পুষ্টি
মেনোপজের সময় ও তার পর নারীদের দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ওজন বাড়া, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং হৃদরোগ, ডায়বেটিস,কার্ডিয়ো ভাসকুলার ডিজিজ ও অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও বাড়াতে পাড়ে। পুষ্টিবিদ রাখির পরামর্শ, এ সময়ে প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও ক্যালসিয়াম ও ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে হবে।
বয়সের বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে বদল আসে। ব্যক্তির ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করেই খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে।
খাবারের তালিকায় কী রাখবেন?
অতিরিক্ত প্রক্রিযাজাত ?খাবার খাবারের বদলে ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দেওয়াই ভালে। মৌসুমি ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, ডিম, পনির, ডাল ও বিভিন্ন শস্য দানা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
এসএ