সুস্থ থাকার কথা উঠলেই অনেকের মনে আসে জিমের খরচ, দামি খাবার, স্পা কিংবা নানা ধরনের ওয়েলনেস প্রোগ্রাম। কিন্তু শরীর ও মন ভালো রাখতে সবসময় বড় অঙ্কের টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করেই নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া এবং মানসিক চাপ কমানোর মতো অভ্যাসগুলো সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এসবের অনেক কিছুই বিনামূল্যে বা খুব সামান্য খরচে করা সম্ভব।
ব্যায়াম করুন খোলা জায়গায়
ব্যায়াম করতে জিমে ভর্তি হওয়া জরুরি নয়। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম করা যায় বাড়িতেই। স্কোয়াট, পুশ-আপ, লাঞ্জ বা হালকা স্ট্রেচিংয়ের মতো ব্যায়ামে বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। বাসার ছাদ, খোলা মাঠ বা পার্কেও এসব করা সম্ভব। নতুন করে ব্যায়াম শুরু করলে ধীরে ধীরে সময় ও পরিমাণ বাড়ানো ভালো। মূল বিষয় হলো নিয়মিত থাকা।
বাগান করা শুরু করুন
বাগান করার অভ্যাস শুধু বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানসিক স্বস্তিও দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাগান করেন, তাদের মানসিক সুস্থতার মাত্রা তুলনামূলক ভালো এবং চাপের মাত্রাও কম হতে পারে। নিজের বাড়িতে জায়গা না থাকলেও সমস্যা নেই। বারান্দা বা ছাদে কয়েকটি টব দিয়ে শুরু করা যায়। এমনকি এলাকার কোনো কমিউনিটি গার্ডেনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করা সম্ভব। গাছের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি এতে বাইরে সময় কাটানো, অন্য মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগও তৈরি হয়।
পুরোনো কোনো শখ আবার শুরু করুন
ছোটবেলায় যে কাজগুলো করতে ভালো লাগত, সেগুলোর কোনো একটি আবার শুরু করতে পারেন। বই পড়া, ছবি আঁকা, পাখি দেখা, সেলাই, ক্রোশে, রান্না কিংবা হাতের কাজ হতে পারে এর মধ্যে। পাখি দেখার মতো শখের জন্য বিশেষ কোনো খরচের প্রয়োজন নেই। কাছের পার্ক বা খোলা জায়গায় গেলেই শুরু করা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩০ মিনিট পাখি দেখাও মানুষের সুখ ও ভালো থাকার অনুভূতি বাড়াতে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে।
বন্ধুদের নিয়ে ছোট আয়োজন করুন
সুস্থ থাকার জন্য সবসময় একা সময় কাটানোও জরুরি নয়। বন্ধু বা পরিচিতদের নিয়ে হাঁটা, যোগব্যায়াম, ধ্যান কিংবা সাধারণ আড্ডার আয়োজন করা যেতে পারে। অনেক জায়গায় মানুষ নিজেরাই বিনামূল্যে বা কম খরচে এমন ছোট আয়োজন করছেন। বন্ধুদের নিয়ে পার্কে হাঁটা, সকালে ব্যায়াম কিংবা সপ্তাহে একদিন বই পড়ার আড্ডা শুরু করা যেতে পারে। এতে শরীরচর্চার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগও বাড়ে, যা মানসিক ভালো থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকুন
দিনের বড় একটা সময় ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ধরনের স্ক্রিনে কেটে যায়। তাই প্রতিদিন কিছু সময় এসব থেকে বিরতি নেওয়া যেতে পারে। এই সময়টায় বই পড়া, হাঁটা, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কিংবা চুপচাপ বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার না করে শান্ত কোনো কাজে সময় দিলে দিনের শেষে মনকে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।
বাড়িতেই শান্ত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করুন
‘সাউন্ড বাথ’ বা ধ্যানের মতো ওয়েলনেস কার্যক্রম এখন জনপ্রিয়। তবে এ ধরনের সেশনে অংশ নিতে সবসময় টাকা খরচ করার দরকার নেই। ইউটিউব বা স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকৃতির শব্দ, শান্ত সুর কিংবা মেডিটেশনের অডিও পাওয়া যায়। নিরিবিলি জায়গায় কিছু সময় চোখ বন্ধ করে এসব শোনা যেতে পারে। তবে অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্টকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে শুধু বিশ্রাম বা মানসিক প্রশান্তির একটি উপায় হিসেবে নেওয়াই ভালো।
ছোট অভ্যাসেই শুরু হতে পারে পরিবর্তন
সুস্থ থাকার জন্য একসঙ্গে জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা, গাছের যত্ন নেওয়া, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া কিংবা কিছুক্ষণ ফোন থেকে দূরে থাকার মতো ছোট অভ্যাস দিয়েই শুরু করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন অভ্যাস বেছে নেওয়া, যা নিজের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায় এবং নিয়মিত করা সম্ভব। কারণ, একদিনের কোনো বিশেষ আয়োজনের চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি