ফ্রিজ এমন একটি গৃহস্থালির যন্ত্র যা প্রায় প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয়। শীতকালে এর ব্যবহার কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না। সারাদিন চালু থাকার কারণে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুতের বিলে।
আপনি যদি ফ্রিজ ব্যবহার করার সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চান, তাহলে একটি ছোট বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অনেকেই জায়গা বাঁচানোর জন্য ফ্রিজকে একেবারে দেওয়ালের গায়ে ঠেস দিয়ে রাখেন।
আপনি যদি এমনটা করে থাকেন, তাহলে অবিলম্বে ফ্রিজটিকে দেওয়াল থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখা উচিত। কেন ফ্রিজ ও দেওয়ালের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রাখা জরুরি, তা জেনে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সাধারণত ফ্রিজের পিছনের দিকে কনডেনসার কয়েল এবং কম্প্রেসার থাকে। কিছু মডেলে এগুলো পাশের দিকেও থাকতে পারে। দুই ক্ষেত্রেই এই অংশগুলোর সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের প্রয়োজন হয়। যদি ফ্রিজকে একেবারে দেওয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখা হয়, তাহলে কনডেনসার কয়েল ও কম্প্রেসার থেকে উৎপন্ন তাপ বাইরে বের হতে পারে না। ফলে এই অংশগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ফ্রিজের ভেতরের জিনিস ঠান্ডা রাখতে এগুলোকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায় এবং যন্ত্রাংশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
গরমকালে বাইরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত চাপ পড়লে দামি কনডেনসার কয়েল বা কম্প্রেসার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বহুলাংশে বেড়ে যায়।
কনডেনসার কয়েল ও কম্প্রেসার থেকে বের হওয়া তাপ বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা দরকার। ফ্রিজ ও দেওয়ালের মধ্যে ফাঁকা জায়গা থাকলে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে এবং তাপ সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। এর ফলে যন্ত্রাংশগুলোর ওপর চাপ অনেক কমে যায়। এর দুইটি বড় সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, বিদ্যুৎ কম খরচ হয় এবং মাসিক খরচ বাঁচে। দ্বিতীয়ত, কম্প্রেসার ও কনডেনসার কয়েলের ওপর চাপ কম পড়ায় সেগুলি দীর্ঘদিন খুব ভালোভাব কাজ করে।
ফ্রিজ ও দেওয়ালের মধ্যে এমনভাবে ফাঁকা জায়গা রাখুন যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। যদি ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, তাহলে ফ্রিজকে দেওয়াল থেকে ১ থেকে ২ ফুট দূরে রাখা যেতে পারে। আর যদি জায়গার অভাব থাকে, তবে অন্তত ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি দূরত্ব অবশ্যই বজায় রাখুন। এতেই খুব সহজে বাতাস চলাচল করবে এবং আপনার ফ্রিজ আরও অনেক বেশি কার্যকরভাবে ও সাশ্রয়ীভাবে কাজ করতে পারবে।
এসএ