মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে হামলা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে ছয় সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০১.২১ ডলারে উঠে দিনের লেনদেন শেষ করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়ে ৯৬.০৫ ডলার হয়েছে।
তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রয়টার্সের হিসাবে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ থেকে বাইরে রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ফলে নতুন করে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে তার প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনাও কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আলজাজিরার লাইভ আপডেটে ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে সিরিকসহ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও বিস্ফোরণের খবর এসেছে। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হতে পারে।এমন আশঙ্কায় এখন বিশ্ববাজারের নজর মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।
এফএস