ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
সরকারি মহিষ প্রজনন খামারে ৫২ পদের ৪২টিই শূন্য, নেই ভেটেরিনারি সার্জন
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
X
Advertisement

দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে ৫২টি অনুমোদিত পদের ৪২টিই শূন্য। রাজস্ব খাতে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সবচেয়ে বড় সংকট হলো, খামারটি প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরেও ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি। অথচ ৯৫ একরের এই খামারে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ২৮০টি মহিষ। বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে উন্নত মুররাহ জাতের মহিষও আনা হয়েছে। স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকায় মূল্যবান এসব প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে খামারটি।

ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ এলাকায় ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের মহিষের জাত উন্নয়ন, বংশবিস্তার এবং দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই খামারে বর্তমানে প্রায় ২৮০টি মহিষ রয়েছে।

খামার সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ৫২টি রাজস্ব পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। বদলি, অবসরসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২২ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি থেকেই গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ নেই। ফলে কোনো মহিষ অসুস্থ হলে বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা দিতে হয়। এতে উন্নত জাতের মূল্যবান মহিষের চিকিৎসাসেবা ও রোগ নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

গত ৩১ অক্টোবর মাঠে চরানো শেষে কয়েকটি মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে একে একে ২০টি মহিষ মারা যায়। খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মৃত মহিষগুলোর মূল্য ছিল প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গজানো ঘাসে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। এত বড় ক্ষতির পরও খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি বা স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে খামারের ৪৪টি মহিষ দুধ দিচ্ছে। এসব মহিষ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খামার থেকে ১০১ জন খামারির মধ্যে ১৪১টি মহিষের বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। ফলে দেশের মহিষের জাত উন্নয়ন ও খামারি পর্যায়ে বংশবিস্তারে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আল মামুন বলেন, “৫২টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৪২টি শূন্য। বর্তমানে ২২ জন আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খামারে একজন ভেটেরিনারি সার্জনসহ প্রয়োজনীয় জনবল জরুরি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকায় জেনারেটর এবং নিচু ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার ও মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে।”

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেব আলী বলেন, “মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক থাকা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি বা কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”

দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে এত বিপুলসংখ্যক মহিষ থাকলেও স্থায়ী ভেটেরিনারি চিকিৎসক না থাকায় প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা না হলে খামারের উন্নত জাতের মহিষের স্বাস্থ্য ও প্রজনন কার্যক্রম আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এএ/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement