তারিখ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শ্রদ্ধেয়া নীলা চৌধুরী,
ঢাকা থেকে আপনাকে এই খোলা চিঠি লিখছি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বেদনা নিয়ে।
আপনাদের প্রিয় সন্তান, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দার কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রে যেন এক উজ্জ্বল ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন। অতি স্বল্প সময়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও তারকাখ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তা আজও ঢালিউডের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।
আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৯৬ সালের এই দিনেই অকালমৃত্যুর মধ্য দিয়ে থেমে গিয়েছিল সালমান শাহর জীবন। তাঁর মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারকে নয়, তাঁর অগণিত ভক্ত ও পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গনকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর মৃত্যু ঘিরে থাকা প্রশ্ন ও রহস্যের অবসান হয়নি।
সালমান শাহর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নেয়নি এবং তাঁকে হত্যার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক যাত্রায় আপনাদের যে ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তা আমরা দেখেছি, তা নিঃসন্দেহে এক মায়ের অসীম ভালোবাসা ও সন্তানের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।
একজন মা হিসেবে আপনার বেদনা কতটা গভীর—তা হয়তো কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালের সেই মর্মান্তিক দিনের পর আপনাদের জীবনের বাস্তবতাই বদলে গেছে। একজন প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোকের সঙ্গে যখন যুক্ত হয় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা, তখন সেই পথ যে কতটা কঠিন, তা কেবল ভুক্তভোগী পরিবারই অনুভব করতে পারে।
সালমান শাহ শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও স্বপ্নের অংশ। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং পর্দায় উপস্থিতি নব্বইয়ের দশকের তরুণদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল, তার প্রভাব আজও স্পষ্ট। তাঁর চলে যাওয়ার পর বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক অভিনেতা এসেছেন, অনেকেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন; কিন্তু সালমান শাহর মতো স্বল্প সময়ে এমন ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করতে পেরেছেন—এমন উদাহরণ খুবই বিরল।
তাঁর মৃত্যুর তিন দশক পরও ভক্তদের হৃদয়ে সালমান শাহ একইভাবে জীবন্ত। সময় তাঁকে আমাদের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর স্মৃতিকে মুছে দিতে পারেনি। বরং বছরের পর বছর তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আজকের এই দিনে তাই আপনাকে শুধু একজন শোকাহত মা হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন ধরে সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় অপেক্ষমাণ একজন মা হিসেবেও স্মরণ করছি।
মহান আল্লাহর কাছে আমার আন্তরিক প্রার্থনা- সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সব প্রশ্নের একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সংগত সমাধান হোক। সত্য উদ্ঘাটিত হোক এবং সংশ্লিষ্ট সবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটুক।
সত্যের জয় হোক- কারণ সত্য কখনো মরে না।
এই চিঠির সঙ্গে আপনাদের প্রিয় সন্তান সালমান শাহর একটি প্রতিকৃতি সংযুক্ত করছি। তাঁর চিরন্তন স্মৃতির প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মুগ্ধতার ক্ষুদ্র নিদর্শন হিসেবে ছবিটি আপনাদের প্রতি উৎসর্গ করছি। আপনারা যদি এই সামান্য শ্রদ্ধার্ঘ্য গ্রহণ করেন, তবে সেটিকে আমি আমার জন্য পরম সৌভাগ্য বলে মনে করব।
সালমান শাহ নেই—কিন্তু তাঁর অভিনয় আছে, তাঁর চলচ্চিত্র আছে, তাঁর স্মৃতি আছে এবং সর্বোপরি কোটি মানুষের হৃদয়ে তাঁর জন্য যে ভালোবাসা, তা আজও অমলিন।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়,
আমিনুর রহমান
রোড ২৭, ধানমন্ডি আর/এ
ঢাকা–১২০৯
মোবাইল: ০১৯৮০-৩৬০৪৪৯
পুনশ্চ: সংযুক্ত প্রতিকৃতিটির মূল ছবি অনলাইনে প্রকাশিত সালমান শাহর বিভিন্ন ছবির মধ্য থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে ছবিটি আমি নিজেই ডিজিটালি সম্পাদনা ও শিল্পসম্মতভাবে পুনর্বিন্যাস করেছি।