পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় ঘাস খেয়ে বিষক্রিয়ায় পাঁচটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মহিষ চরানো নিয়ে চাঁদা দাবি করাকে কেন্দ্র করে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে মাঠে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পরপর মহিষের প্রাণহানির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন লালচরের কৃষকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, লালচরের নিয়মিত চারণভূমির ঘাসে দুর্বৃত্তরা বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। ওই ঘাস খাওয়ার পরই একে একে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী বাবুল মৃধা, সুমন মাঝি, আসাদুল ফকির, নূর মোহাম্মদ, চান্দু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, শুক্রবার মাঠ থেকে গোয়ালঘরে ফেরার পর হঠাৎ মহিষগুলো অসুস্থ হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তিনটি মহিষ মারা যায় এবং ২৫টি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এর আগে গত ২২ আগস্ট একই এলাকায় বিষক্রিয়ায় দুটি মহিষ মারা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লালচরের খাসজমিতে মহিষ চরানো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় ছাত্রদল ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও উত্তেজনা চলছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চরে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছিলেন। চাঁদার টাকা না দিলে লালচরে মহিষ চরাতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।
অবশ্য ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লালচরে জেলেরা মাছ শিকারের জন্য চাঁই পেতেছিলেন। মহিষের পাল সেই চাঁই ভেঙে ফেলেছে। চাঁই ভাঙার ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করা টাকা জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাঁদা হিসেবে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।
এই বিরোধের জেরেই ঘাসে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত অসুস্থ মহিষগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আক্রান্ত মহিষগুলোর রক্ত কালচে হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়ার লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে নাইট্রেট বিষক্রিয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিষাক্ত ঘাস ও মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাউফল থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘাস বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এএস/আরএন