ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র পতনের দ্বারপ্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করায় ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক নেতাদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, “এই শাসনব্যবস্থা বর্তমানে টলমল অবস্থায় রয়েছে। এটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল। তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়ছে।”
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করাকে ইসরায়েলের সামনে থাকা প্রধান কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এই হুমকি চিরতরে দূর করতে পারি। অর্থাৎ এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারি। এটি অসম্ভব নয়; এটি আমাদের নাগালের মধ্যে।”
তিনি আরও বলেন, ইরান অন্যদের ওপর হামলা চালালেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা না চালানোর বিষয়টি কাকতালীয় নয়। ইসরায়েলের সামরিক শক্তি ও দৃঢ়তার বিষয়টি ইরান জানে বলেও দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য এসেছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ নতুন করে বাড়ার মধ্যে। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি, মুদ্রার মূল্য ও অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে রয়েছে।
তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা সত্যিই দ্রুত পতনের মুখে রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল হয়েছে এবং ক্ষমতাসীনদের মধ্যে বড় ধরনের বিভক্তি তৈরি হয়েছে কি না। তা-ই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব ইরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।
এফএস