ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
স্বল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং কমবে: জাহেদ উর রহমান
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট লোডশেডিংয়ের বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাতেও এমন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসে সংকটের বোঝা তুলনামূলকভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি নীতিগত প্রবণতা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং করা হচ্ছে, যাতে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য এলাকায় পুনর্বণ্টন করা যায়।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, সে সময় প্রকৃতপক্ষে কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে। এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হতে পারে।

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদাকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল।

সংকট মোকাবিলায় ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।

এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের চাপও কমছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে কমবেশি কষ্ট নিতে হবে। এই কষ্টটা খুব দীর্ঘ সময় হবে না। এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

দেশে সার সংকট নেই বলে দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে সংকট না থাকলেও বিতরণ পর্যায়ে দু-একটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ মেট্রিক টন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি। তাই মজুতের দিক থেকে কোনো সংকট নেই; বিতরণ পর্যায়ে কিছু জায়গায় যে সমস্যা হয়েছিল, তা সমাধান হয়ে যাবে।

ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ঢাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে একটি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নেতৃত্ব দেন।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশার যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্সিং, যানবাহনের নিবন্ধন এবং কোন কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে- এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ই-রিকশা এখন একটি বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা হবে। নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা গেলে ই-রিকশা চলাচল নিয়ে বর্তমানে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement