যশোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা। আসামির তালিকায় এমন দুজনের নাম আছে, যাঁরা বেঁচেই নেই। একজনের মৃত্যু চার বছর আগে, অন্যজনের ১২ বছর আগে।
যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় দুই মৃত নেতার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট যশোর কোতোয়ালি থানায় ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম। মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য ও পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তালিকার ৫৬ নম্বর আসামি ডা. তবিবর রহমান। তিনি উপশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
একই মামলার ৭৭ নম্বর আসামি আনসার আলী, যিনি চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর মৃত্যু হয়েছে আরও আগে,২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ মামলায় বর্ণিত ঘটনার প্রায় ১২ বছর আগেই তিনি মারা যান।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া-কাঁঠালতলা এলাকায় সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা একটি 'জাতীয় শোক দিবস’ লেখা ব্যানার ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।
এর ধারাবাহিকতায় ৩০ আগস্ট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
মামলায় মৃত দুই ব্যক্তির নাম আসার বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, এজাহারে আসামিদের পিতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই নামে অন্য কেউ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তদন্তে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে আসামির তালিকায় সত্যিই মৃত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এফএস