দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক সংকটের অংশ। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। সব ধরনের সংকট মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীতে থাকা একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নির্ধারিত বাজেটের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয় করে গ্যাস সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশে জ্বালানি নিয়ে আসার পথে একাধিক জাহাজে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
‘জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। হার্ভেস্ট কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি শক্তি ও নানা ধরনের চক্রান্তের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি।
রিজভীর ভাষ্য, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সংগঠিত হন এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন একপর্যায়ে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি গণতন্ত্রের প্রতীকে পরিণত হন।
খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তাঁর আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনা সামনে রেখে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ এখন তারেক রহমানের হাতে অর্পিত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সারাদেশে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে।
দল ও সরকার একে অপরের পরিপূরক
দল ও সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে। ফলে দলের যোগ্য নেতাকর্মীরা সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। দল তার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
সরকারের মন্ত্রীদের দলীয় দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির যেসব নেতা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্বও পালন করবেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে
দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পর জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সততার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করা।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করতে গেলে সংকট আসতে পারে। তবে সংকট যদি সরকার বা দলের নিজেদের তৈরি না হয়, তাহলে জনগণ তা বুঝতে পারে এবং মেনে নেয়।
রিজভী বলেন, জনগণ দেখতে চায় সংকটের সময় সরকার কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। বর্তমান সরকার সেই আন্তরিকতা দেখাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সামনে এখন প্রধান লক্ষ্য জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশ গঠনের আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
-টিএস