ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
খালেদা জিয়াকে ছাড়া প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, নতুন অধ্যায়ের পথে বিএনপি
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় এবারই প্রথম দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটে।

ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলকে সংগঠিত রাখার ভূমিকা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ঐক্য ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় দলটি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, বিরোধী দলে থেকেছে এবং নানা রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এই দীর্ঘ ইতিহাসের বড় একটি অংশজুড়ে ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর আমৃত্যু দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে খালেদা জিয়া দলটিকে নতুন করে সংগঠিত করেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়কে আরও দৃঢ় করে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সরকারের সময় দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হলে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের দলীয় প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

তবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুধু সাফল্যের নয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও বিতর্কেও পরিপূর্ণ। ২০০৭ সালের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা ও কারাবাস তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের পর তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা আরও সীমিত হয়ে যায়। এসব মামলাকে বিএনপি বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উত্তরাধিকার এখন তারেক রহমানের সামনে

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে—তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কীভাবে ধরে রাখবে দলটি। দীর্ঘদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন দলের ঐক্য ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক। তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই ঐক্য ধরে রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি অটুট রাখাই নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা।

এই জায়গায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি এখন দলের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বিএনপিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া তাঁর জন্য যেমন রাজনৈতিক সুযোগ, তেমনি বড় দায়িত্বও।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সামনে এখন শুধু অতীতের রাজনৈতিক সাফল্য স্মরণ করার বিষয় নেই। দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা।

আবেগের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বার্তা

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই বিএনপির কর্মসূচিতে আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা—দুই দিকই গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের স্মরণকে সামনে রেখে দলটি নিজেদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চাইছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পথেই বিএনপির পথচলা।’ তাঁর মতে, যতদিন বাংলাদেশ ও জাতীয়তাবাদ থাকবে, ততদিন খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করা হবে।

৪৮ বছর পর বিএনপির নতুন পরীক্ষা

বাংলাদেশের রাজনীতির গত প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে বিএনপির উত্থান-পতন, সরকার পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় একটি অংশ জড়িয়ে আছে। সেই ইতিহাসে জিয়াউর রহমান যেমন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রধান প্রতীক, তেমনি খালেদা জিয়া ছিলেন দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার কেন্দ্রবিন্দু।

তাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু ৪৮ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একই সঙ্গে দলের একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক।

জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্ব পেরিয়ে এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। অতীতের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কতটা কার্যকরভাবে বর্তমানের রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়- সেটিই বিএনপির সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement