বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের ওপর হামলার ঘটনায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর নিজের দায় স্বীকার করেছেন বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ওরফে বিজয় দাস। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালতে তিনি স্বীকার করেন, সাইফের ওপর তিনিই হামলা চালিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নিজের শাস্তি কমানোর আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাইফ আলী খানের বাড়িতে ঢুকে তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় বলিউডজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হামলার পরপরই অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করে মুম্বাই পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পর থানে থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। ভারতে তিনি ‘বিজয় দাস’ ছদ্মনামে বসবাস করছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর অবশ্য সাইফের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন শরীফুল। তিনি দাবি করেছিলেন, সাইফের বাড়িতে তিনি যাননি এবং অভিনেতার ওপর হামলাও করেননি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
তবে শুক্রবার আদালতে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে হামলার দায় স্বীকার করেন শরীফুল। আদালতে তিনি বলেন, ‘আমি সাইফের ওপর হামলা চালিয়েছিলাম।’ একই সঙ্গে নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত বলেও জানান তিনি।
শরীফুলের আইনজীবী ভিপুল দুসিং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়ায় শরীফুল দায় স্বীকার করেছেন এবং আদালতের কাছে তুলনামূলক কম শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
শরীফুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে মামলাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি এর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিচারক মাহেশ রামরাওয়ের সেশন আদালতে শরীফুলকে হাজির করা হয়। সেখানেই তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাইফ আলী খানের বান্দ্রার বাড়িতে প্রবেশের পর অভিনেতার মুখোমুখি হলে শরীফুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত সাইফকে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
-টিএস