খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় গত শুক্রবার মধ্যরাতে মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। এতে ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের মানুষ। অনেক ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী ও মূল্যবান জিনিসপত্র ভেসে গেছে।
দীঘিনালা উপজেলার জামতলী, সুধীর মেম্বারপাড়া, মায়াপাড়া, জামতলী বাঙালি পাড়ার নিচু এলাকা ও জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় বেশ কয়েকটি মাটির ঘর ও গুদামঘর ভেঙে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সানজিদা আক্তার ও আয়েশা আক্তার বলেন, রাতের ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ করে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। পানি বাড়তে থাকায় অনেকে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ পাননি। ঘরের আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী, কাপড়চোপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে ভেসে গেছে।
জামতলী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত আমেনা বেগম বলেন, “শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে আমার সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। ভাত রান্না করে খাব, সেই পাতিলটাও নেই। জমিনে কাজ করে মেয়ের জন্য এক জোড়া কানের দুল বানিয়েছিলাম, সেটিও পানিতে ভেসে গেছে। এখন আমার কিছুই নেই।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফাতেমা আক্তার বলেন, “ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়িতে পানি। এর মধ্যে বাড়ির এক কোণা ভেঙে গেছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাতেন বলেন, কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই বর্তমানে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা চান।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
এসআর/আরএন