কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পেকুয়া বাজার-সিরাদিয়া সড়কের প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কটির অধিকাংশ ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। দুপাশের মাটি সরে কোথাও কোথাও সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইট দিয়ে সড়কটির উন্নয়ন করেন। এরপর কেটে গেছে ২২ বছর, কিন্তু ওই অংশে আর কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, কয়েক বছর ধরে ওই অংশে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
পেকুয়া বাজার থেকে সিরাদিয়া সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভোলাইয়াঘোনা রাস্তার মাথা থেকে মইয়াদিয়া আবছার সওদাগরের দোকানঘর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে আবছার সওদাগরের দোকানঘর থেকে সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, স্থানীয়ভাবে ‘গরম মসজিদ’ নামে পরিচিত, পর্যন্ত অংশটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সিরাদিয়া গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এ সড়ক। মৎস্য ও লবণচাষ সমৃদ্ধ এ এলাকার উৎপাদিত মাছ ও লবণ পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে। সিরাদিয়া জেটিঘাট হয়ে মাতামুহুরীর কোনাখালী, বাংলা বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পেকুয়া বাজার ও সিরাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম পথও এটি।
সড়কটির পাশে রয়েছে সিরাজুল হক চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। শত শত শিক্ষার্থী এ পথ দিয়ে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজ, পেকুয়া মডেল সরকারি জিএমসি ইনস্টিটিউশন, পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত এবং উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এদিকে সিরাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি একটি প্রসিদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে সড়কটির দুরবস্থায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা ও দ্রুত সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিরাদিয়ার বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
মাঈন উদ্দিন আহমদ বলেন, “সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সবাই দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। মন্ত্রী মহোদয় খুব শিগগিরই সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”
স্থানীয় লবণচাষী জামাল উদ্দিন বলেন, “লবণ পরিবহনের সময় ছোট-বড় যানবাহন সড়কের গর্তে আটকে যায়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার।”
মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, “সড়কের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অংশে গাড়ি চলাচল বন্ধের মতো অবস্থা। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
কলেজছাত্র রাসকান বলেন, “ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ঠিকমতো কলেজে পৌঁছাতে পারি না। প্রায় এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কৃষি, মৎস্য ও লবণ উৎপাদন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে সড়কটির জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হোক। ২২ বছর ধরে পড়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুর্ভোগের অবসান চান তারা।
এনইউ/আরএন