রংপুরের ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত শিক্ষকের নাম গণপতি চক্রবর্তী (৬৫)। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু হয়। অভিযানের একপর্যায়ে শ্মশান এলাকা থেকে জড়িতদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা ঘটনার পর ওই বাড়িতে অবস্থান করে মাদক সেবন করেছিল বলে আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে কোনো স্থানীয় গোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি দোতলা বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে বাসার বিভিন্ন অংশ থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) লাশ উদ্ধার করে। রোববার ভোরে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসরে গিয়ে অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মেয়ে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। বাসাটির জিনিসপত্র তছনছ করা ও স্বর্ণালঙ্কারের স্থান ভাঙা থাকায় ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এসএ