জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
নির্যাতনের সাত দিন পর শুক্রবার রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারী মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ভাইয়ের করা মামলা গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান কালাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিপেন্দ্র নাথ সিংহ।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান শাপলা (৪০) উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের প্রয়াত আব্দুস সামাদ প্রামানিকের ছেলে।
নিহত গৃহবধূ মাছুদা বেগম (২৭) ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়া গ্রামের প্রয়াত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদীর সঙ্গে মাছুদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ বছরে একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকে দাবিতে মাছুদাকে নির্যাতন করতেন মেহেদী। এর মধ্যে তাদের বিচ্ছেদও হয়। তবে বিচ্ছেদের এক বছরের মাথায় তারা আবার বিয়ে করে একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন।
“এর মধ্যে ১৪ অগাস্ট দুপুরে মাছুদার কাছে আবার যৌতুক দাবি করেন মেহেদী। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরের দরজা বন্ধ করে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে মাছুদার হাত-পা বাঁধেন মেহেদী।
“পরে প্লাস (চাপা দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে তার মুখে আঘাত করলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এমনকি কাস্তে গরম করে মাছুদার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। পরে জখমের স্থানে লবণ ও মরিচের গুড়া দেওয়া হলে তীব্র যন্ত্রণায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মাছুদা।”
এক পর্যায়ে মাছুদাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে মেহেদী পালিয়ে যান বলে মামলায় দাবি করেছেন বাদী।
পরে বিকালে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে ওই দিনই তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাছুদা মারা যান।
মামলার বাদী মাছুদার ভাই বছির মণ্ডল বলেন, “আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।”
পুলিশ পরিদর্শক দিপেন্দ্র নাথ সিংহ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই নিহতের স্বামী মেহেদীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী অপরাধ স্বীকার করলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
টিআইএস