ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
চালক-মালিকের পাশাপাশি যাত্রী-পথচারীকেও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম
X

সড়কে আইন ভাঙার দায় এতদিন মূলত চালক ও মালিকের ওপর থাকলেও এবার সেই পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ চালক ও মালিকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট অপরাধে যাত্রী ও পথচারীকেও শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা এবং নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই অঙ্কের জরিমানা হতে পারে ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচলকারী পথচারীরও।

এ ছাড়া মোটরসাইকেলে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে সহযাত্রী হিসেবে নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুকে কীভাবে বহন করা যাবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

লাইসেন্স ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ককে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককেও দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। চালক ও সহযাত্রী- দুজনের জন্যই মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার অথবা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরযানের সামনের আসনে বসানো যাবে না। বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা আসন বা ‘চাইল্ড রিস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ রাখার বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

পথচারীদের জন্যও থাকছে শাস্তি

প্রস্তাবিত আইনে পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার এ বিধান না মানলে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

তবে দেশের অনেক সড়কে ফুটপাত দখল, ফুটপাত না থাকা কিংবা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিও খসড়ায় আলোচনায় এসেছে। নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত ক্রসিং ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়া হলেও বাস্তবে নিরাপদ হাঁটার অবকাঠামো নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শহরে সর্বোচ্চ গতি ৪০ কিলোমিটার

খসড়ায় জাতীয় পর্যায়ে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় স্পিড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

পথচারী পারাপারের স্থান, মোড়, রেলক্রসিংয়ের ৫০ মিটারের মধ্যে, কুয়াশা, বৃষ্টি বা ধুলায় দৃষ্টিসীমা কমে গেলে এবং জনবহুল এলাকায় ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

ক্লান্ত বা ঝিমুনি অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এসব বিধান প্রথমবার ভাঙলে সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি চালকের এক পয়েন্ট কাটার বিধানও রাখা হয়েছে।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে নমুনা পরীক্ষা

নতুন আইনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্ত করতে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা অন্য নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে।

নমুনা দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। হেলমেট-সংক্রান্ত বিধান ভাঙলেও একই ধরনের শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

গাড়িতে বাড়ছে নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার

নিরাপদ মোটরযানের জন্য এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্ন্যান্স, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, আধুনিক স্পিড লিমিটার, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।

পাশাপাশি অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ও বুদ্ধিমান গতি অভিযোজন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে ‘নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ এবং সড়কের নিরাপত্তা মান নির্ধারণে ‘স্টার রেটিং’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।

মালিকের দায়ও বাড়ছে

যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও মালিককে দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে।

চালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমবার দায়িত্বে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং পরবর্তী প্রতিবার ১০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় বিধান লঙ্ঘন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে দায়ী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় খসড়া

প্রস্তাবিত আইনটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এটি মতামত ও পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

নতুন আইনটি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন বাতিল করছে না। বরং ওই আইন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এবং মহাসড়ক আইন-২০২১সহ সংশ্লিষ্ট আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

আইনটির মূল লক্ষ্য হিসেবে চালক, যাত্রী ও পথচারীর আচরণের পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন, সড়ক অবকাঠামো, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা তদন্ত এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও সেবাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক যানবাহন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে নতুন আইন বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।


-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝