দেশের ওষুধ শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং বায়োসিমিলার (বাজারে অনুমোদিত এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য একটি ওষুধের ‘রেফারেন্স’ বা জৈবিক ফর্মুলা হুবহু অনুকরণে তৈরি ওষুধ) ও টিকা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দ্রুত একটি ‘জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ন করা হবে।
রাজধানীর একটি হোটেল রোববার ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন: বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ তথ্য দেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজক বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্স ও সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।
সরকারি ও বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন বলেন, "আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে। এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মত উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তর করার। এটিকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়ে দেখতে হবে। কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন গড়ে তোলা এবং বায়োসিমিলার নিয়ে নিজস্ব গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।”
শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ বা কেন্দ্রীয় ল্যাব সুবিধা তৈরিরও আশ্বাস দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
এম এ মুহিত বলেন, “আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সঠিক মান ও আন্তর্জাতিক স্কেল বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। নতুন এই রূপান্তরে প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। সরকার শুধু সাধারণ কর্মসংস্থান নয়, বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
তরুণ গবেষকদের সুযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিক্যুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, আইসিডিডিআর,বি প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, ডিজিডিএ পরিচালক নাঈম গোলডার, জেনেক্স হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. মুনিয়া আমিন, সাদাফ সাজ, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোসাদ্দেক হোসাইন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সোহেল রানা।
টিআইএস