শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল দুই দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামিকে। শনিবার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ন্যাশভিল এসসির কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে মিয়ামি। ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন মেসি, দেখেছেন হলুদ কার্ড, আবার দলের একমাত্র গোলেও রেখেছেন অবদান।
মেসির জন্য রাতটা ছিল খুবই হতাশার। টানা তৃতীয় ম্যাচে হার, টানা তৃতীয় পেনাল্টি মিস- সব মিলিয়ে ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে হারের বড় লজ্জার মুখোমুখি হতে হলো মিয়ামিকে। শনিবারের এই হারে মেজর লিগ সকারের শীর্ষস্থানও হাতছাড়া হয়েছে তাদের।
জিওডিস পার্কে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল উত্তেজনা। তবে প্রথমার্ধেই ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল মিয়ামি। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কিন্তু তার দুর্বল শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিল গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়াকে। ফিরতি বলে সার্জিও রেগিলন জালে বল পাঠালেও ভিডিও রিভিউয়ের পর সেটি বাতিল হয়, কারণ পেনাল্টির সময় তিনি আগেই বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন।
এই পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে নাম লেখালেন মেসি। ২০১৪ সালের পর এই প্রথম টানা তিনটি পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলেন আর্জেন্টাইন তারকা। চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে এবং মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। এবার টানা তৃতীয় পেনাল্টি মিস করলেন।
ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসির শেষ এমএলএস পেনাল্টি মিস ছিল ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর।
পেনাল্টি মিসের হতাশা অবশ্য প্রথমার্ধেই কিছুটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পান মেসি। ১৭ মিনিটে অ্যান্ডি নাহারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ন্যাশভিল। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মেসির দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে তেলাসকো সেগোভিয়া দুর্দান্ত দক্ষতায় গোল করে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান।
১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৯ মিনিটে হানি মুখতার গোল করে আবারও ন্যাশভিলেকে এগিয়ে দেন। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে স্যাম সারিজ দুর্দান্ত ব্যাকহিল ফিনিশে ন্যাশভিলের ব্যবধান ৩-১ করেন। গোলটির আগে মেসি ফাউলের আবেদন করেছিলেন। রেফারি তাতে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিয়ামি অধিনায়ক। একপর্যায়ে তাকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়।
এরপর মেসির হতাশা আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে একই আক্রমণে তার শট একবার নয়, দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটিও বাতিল হয়ে যায়। অর্থাৎ এক ম্যাচে পেনাল্টি মিস, দুই পোস্টে বল লাগা এবং বাতিল হওয়া গোল- সবকিছুই ঘটেছে মেসির সঙ্গে।
ন্যাশভিলের চতুর্থ গোলটিও ছিল মিয়ামির জন্য চরম হতাশার। মিয়ামি গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো বক্সের অনেক বাইরে এসে বল ধরতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান। ন্যাশভিল গোলরক্ষক শোয়াকের দূরপাল্লার কিক চলে যায় সামনে থাকা মুখতারের কাছে। সামনে ফাঁকা গোল পেয়ে সহজেই বল জালে পাঠান ন্যাশভিলের এই সাবেক এমএলএস এমভিপি। নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৪-১ জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এই হারের ফলে এমএলএসে মিয়ামির সাত ম্যাচের অপরাজিত যাত্রারও ইতি ঘটল। লিগে এর আগে টানা ছয় ম্যাচ অপরাজিত ছিল গত মৌসুমের এমএলএস কাপজয়ীরা। ন্যাশভিলের বিপক্ষে জিততে পারলে মিয়ামি উঠে যেত ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের শীর্ষে। কিন্তু উল্টো ন্যাশভিল এখন তাদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে।
মিয়ামির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে, কারণ এটি তাদের টানা তৃতীয় হার। এর আগে লিগস কাপের ম্যাচে মেক্সিকোর ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা দুই পরাজয়ের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। যদিও ওই দুই ম্যাচে মেসি বা লুইস সুয়ারেজ কেউই শুরুর একাদশে ছিলেন না।
বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ন্যাশভিলের বিপক্ষেই প্রথমবার মিয়ামির একাদশে ফিরেছিলেন মেসি। এক সপ্তাহ আগে বাবাকে হারানোর পর তিনি মন্তেরের বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন না। এরপর লিওন ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। এবার ন্যাশভিলের বিপক্ষে শুরু থেকেই খেললেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকল হতাশার নানা ঘটনায়। একদিকে পেনাল্টি মিস, অন্যদিকে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ, পোস্টে বল লাগা এবং বাতিল হওয়া গোল- সব মিলিয়ে মেসির রাতটি ছিল ভুলে যাওয়ার মতো।
অন্যদিকে ন্যাশভিল নিজেদের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ধরে রেখেছে। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন এমএলএসের শীর্ষে। ১৩টি জয়, দুটি হার ও চারটি ড্র তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।
মিয়ামির সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বুধবার। সেদিন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মাঠে খেলবে তারা। টানা তিন হারের পর মেসির নেতৃত্বে মিয়ামি সেই ম্যাচে জয়ের ধারায় ফিরতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার।