দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। হাসান মাহমুদের আগুনঝরা বোলিং, তানজিদ হাসান তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে চার দিনেই হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ২২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রানে। তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে।
৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে ফাইফার। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হাজার রান ও ১০০ উইকেটেরও মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করলেও মিরাজের তোপে বোলিংয়েই ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে ৫৬ রানের বেশি লিড নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ক্ষুদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে তামিম সাজঘরে ফেরেন ডাক মেরে। দলীয় ৪ রানে বোল্ড হন তিনি।
কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়
এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে। ব্যাট হাতে ফিফটি করার পর বল হাতেও অজিদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।
চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ। ৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে। পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে। দলীয় ২০৭ রানে আউট হন কামিন্স।
লাঞ্চের পর তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টার্ক ১৮ রান করে। ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি তার ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ফলে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় লিডের আশা শেষ হয় অজিদের।
শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও তাতে কোনো লাভ হয়নি তার। লায়নকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেন মিরাজ।
অলআউট হওয়ার আগে ৫৬ রানের লিড জমা হয় স্বাগতিকদের বোর্ডে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। যে লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে ম্যাকায়।
এসএ