ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে সমীকরণটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ- অনেকেরই ধারণা ছিল, স্বাগতিকদের সামনে বড় ব্যবধানে হারতে পারে সফরকারীরা। কিন্তু দুই দিন শেষ হতেই বদলে গেছে পুরো চিত্র। ছয় সেশনের একটিতেও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি রিকি পন্টিংও মনে করছেন, চাপে আছে স্বাগতিকরাই। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা এখানে নার্ভাস থাকবে।’
পন্টিংয়ের মতে, ম্যাচ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার ওপর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটা ম্যাচ, যেখানে সবাই হয়তো ভেবেই এসেছিল যে তারা বাংলাদেশকে সহজে গুঁড়িয়ে দেবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা পুরোপুরি পিছিয়ে পড়েছে। টপ অর্ডারের দু-একজন ব্যাটসম্যান ইতিমধ্যে চাপে আছে।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক আরও মনে করেন, পরের দুই দিন স্বাগতিক দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। ফলে তাদের ওপর মানসিক চাপও থাকবে অনেক বেশি।
দুই দিনের খেলায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্সই পন্টিংয়ের এমন মূল্যায়নের মূল কারণ। প্রথম দিনে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তানজিদ হাসান। নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার।
তানজিদের সেঞ্চুরি ও নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গড়ে ৪২৬ রানের সংগ্রহ। এতে ২২৮ রানের বড় লিড পায় সফরকারীরা।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। এখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৩৬ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
তবে পন্টিং মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখনও বাকি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দলটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটিই তাদের মানসিক দৃঢ়তার বড় পরীক্ষা হবে। তার ভাষায়, ‘ম্যাচটি জেতার মতো নিরাপদ অবস্থানে যেতে হলে সামনে আরও অনেক রান তুলতে হবে, যা বেশ কঠিন। তাই শুরুতেই এই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং অর্ডারের মানসিকতা, মান ও দক্ষতা সম্পর্কে আমরা খুব ভালো একটা ধারণা পেয়ে যাব।’
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও দেখছেন পন্টিং। তার মতে, প্রথম ইনিংসের তুলনায় এখন উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উইকেট দেখে ভালো মনে হচ্ছে। প্রথম ইনিংসের তুলনায় এখন এটাকে অনেক ভালো মনে হচ্ছে।’
তারপরও ম্যাচের বর্তমান চিত্রে এগিয়ে বাংলাদেশই। বল হাতে হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪২৬ রান করে বড় লিড নিয়েছে সফরকারীরা। যে ম্যাচকে শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়ের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিই এখন হয়ে উঠেছে স্বাগতিকদের জন্য কঠিন মানসিক পরীক্ষার মঞ্চ।
-টিএস