ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস
✎ জাহিদ বিপ্লব
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫২ পিএম আপডেট: ১৪.০৮.২০২৬ ৭:৫৫ পিএম
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্তি এবং প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল্যায়ন সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টন ও মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে আপাতত বড় ধরনের কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার চেয়ে দায়িত্বের ভারসাম্য আনা বা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। আগামী ১৬ আগস্ট ওই কর্মসূচির সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি ও অর্জনসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর জয়ী হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন কাউকে আনার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মির্জা ফখরুলের শূন্য হওয়া দায়িত্বের পাশাপাশি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম রয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং আন্দালিব রহমান পার্থকেও মন্ত্রিসভায় নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়া এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ড. আবদুল মঈন খানকে পরিকল্পনা এবং জয়নুল আবেদীন ফারুককে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

রুহুল কবির রিজভীকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। বেগম সেলিমা রহমানকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং ড. এমএ মুহিতকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থকে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্রগুলো বলছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের কাজের চাপ কমিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যালোচনায় কোন মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, কোথায় কাজের চাপ বেশি এবং কোন ক্ষেত্রে নতুন দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে প্রথম ধাপে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে বর্তমান কাঠামো মোটামুটি ঠিক রেখে কয়েকজন নতুন সদস্যকে যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি।

মন্ত্রিসভার একজন সদস্য ডেইলি অবজারভারকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুপারিশ ও অনুরোধ থাকলেও আমলাতন্ত্রের একটি অংশ অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। ছয় মাস পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ডেইলি অবজারভারকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসবে—এটি সত্য। তবে ২০ সেপ্টেম্বরের আগে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।’

মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের চূড়ান্ত এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এমপি ডেইলি অবজারভারকে বলেন, ‘মহাসচিব যেহেতু রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, সেক্ষেত্রে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে নতুন কেউ আসবেন—এটি নিশ্চিত। তবে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন সম্পর্কে গুঞ্জন শুনলেও তা আমি নিশ্চিত নই।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ডেইলি অবজারভারকে বলেন, ‘মন্ত্রী পরিষদের রদবদলের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে দেশের নির্বাহী প্রধান যেকোনো সময় মন্ত্রিসভায় রদবদল করতে পারেন।’

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় দায়িত্বের ভারসাম্য আনা, মির্জা ফখরুলের শূন্য হওয়া মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্বশীল নিয়োগ এবং কয়েকজন নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে পরিবর্তনের পরিধি ও কারা নতুন দায়িত্ব পাচ্ছেন—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে।

জেবি/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝