বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, গত ছয় মাসে সরকারের প্রতিশ্রুত অধিকাংশ নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। কোথাও ১০০ শতাংশ, আবার কোথাও ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের ছয় মাসের অর্জনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান শিগগির প্রকাশ করা হবে। আগামী ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম আরও জোরালো ও কার্যকর হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি তুলে ধরে রিজভী বলেন, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলীয় কার্যালয়ে একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়েও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, শপথ গ্রহণের আগে পদত্যাগ করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিজ দায়িত্ববোধ থেকেই মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগ করেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংগঠনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আজকে আমার কাছে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। কোনো ডাইরেক্টিভস বা কোনো ইনস্ট্রাকশন আমার কাছে আসেনি।’
দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়ে থাকলেও তা তার জানা নেই বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি গুরুত্বসহকারে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘ম্যাডামের বিষয়টা আমাদের জাতির একটা আবেগের বিষয়। আমি মনে করি আপনারা এই বিষয়টিকে একটু গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তারিকুল আলম তেনজিংসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।