টানা তিন মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ শিকার শুরু হয়েছে। সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর হ্রদে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। এতে রাঙ্গামাটি বিএফডিসির অবতরণ ঘাট, মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাঙ্গামাটির চারটি ল্যান্ডিং ঘাটে হ্রদ থেকে ধরা মাছ আসতে শুরু করে। মাছ পরিবহন, বেচাকেনা ও সংরক্ষণের জন্য শহরের বরফকলগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মতৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিএফডিসি অবতরণ ঘাট।
কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি এবং হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির উপযোগী করে তুলতে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিন মাস ১৫ দিন পর সোমবার মধ্যরাত থেকে আবার মাছ আহরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই জেলেরা নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে হ্রদে মাছ ধরতে নামেন। ভোর থেকেই বিভিন্ন ঘাটে মাছ আসতে শুরু করে। মাছের সরবরাহ বাড়ায় রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন মাছের বাজারেও বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
রাঙ্গামাটির মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল শুক্কুর বলেন, দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন পর মাছ শিকার শুরু হওয়ায় তারা আবার ব্যবসা শুরু করতে পেরেছেন। এজন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে প্রথম দিকে ধরা পড়া মাছের আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।
আব্দুল শুক্কুর বলেন, মাছের আকার ছোট হওয়ায় ব্যবসার খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজার ভালো থাকলে হয়তো লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাছের আকার বড় হলে ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
রাঙ্গামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, দীর্ঘদিন মাছ শিকার বন্ধ থাকার পর প্রথম দিনেই বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে প্রচুর পরিমাণ মাছ এসেছে। প্রথম দিকে মাছের আকার কিছুটা ছোট হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাছের আকার আরও বড় হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় আগামী দিনে মাছের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের বিশাল জলরাশি রাঙ্গামাটির অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময় মাছ আহরণ বন্ধ রেখে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পরে নির্ধারিত সময় ও নিয়ম মেনে মাছ শিকার উন্মুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ সম্পদকে টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এসআই/আরএন