খুলনা মহানগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন কার্যক্রম চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অংশীজনদের এক পরামর্শ সভা আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনের জিআইজেড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভাপতির বক্তৃতায় প্রশাসক বলেন, ‘খুলনা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের স্বপ্ন। কিন্তু এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেসিসির কাজে গতিশীলতা আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
দুইটি ওয়ার্ড মিলিয়ে একটি করে ছোট খেলার মাঠ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অব্যবহৃত জমিতে পার্ক নির্মাণ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রশাসক আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন হলে শিশুরা ক্রীড়া চর্চায় উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসী উন্মুক্ত পরিসরে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।’
তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক মার্কেট এবং বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও সভায় উল্লেখ করেন।
কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘সবার জন্য বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর (এলআইসিএ)’ প্রকল্প এবং পরামর্শক সংস্থা ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)’ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জার্মান ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন (জিআইজেড)-বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) সঙ্গে বাস্তবায়ন চুক্তি এবং ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) অনুমোদনের পর প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় গৃহীত কার্যক্রমের ভিত্তিতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ঢাকা-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)’-কে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রণীত কৌশলের লক্ষ্য হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিষেবা প্রদানে কেসিসির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। কাজটি পরিচালনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম।
কৌশল প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংস্থাটি ইতোমধ্যে কেসিসি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশলের খসড়া উপস্থাপন, আলোচনা ও যাচাই করার জন্য নগর ভবনে একটি অংশীজন কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশলের বাস্তবায়ন কার্যক্রম চূড়ান্ত করার জন্য আজকের এ সভার আয়োজন করা হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামান, প্রকল্পের সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও প্রকল্প প্রধান কাথারিনা ম্যানেক, আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার আবু মুজাফফর মাহমুদসহ অংশীজন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/আরএন