দেশে অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশে আসছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবি চট্টগ্রামে কোনোদিন এসেছে? এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসে বন্দরের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলছেন। অর্থাৎ, চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের (এডিবি) বিশাল পরিকল্পনা আছে।
তিনি বলেন, এখন চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হিসেবে নেই, এ অঞ্চলকে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে তারা দেখতে চায়। কারণ, যেখানে বন্দর আছে সেখানে লজিস্টিক হাব হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোও তার সঙ্গে গড়ে উঠবে। এডিবির সঙ্গে আমার বৈঠক হবে। সব স্টেকহোল্ডারকে ডাকা হয়েছে। এরপর এডিবির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে আমরা এগিয়ে যাবো।
ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার খরচ বেড়ে গেলে সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত হয়। বন্দর ও কাস্টমসের খরচ বাড়লে সেটা জনগণকেই দিতে হয়। এ খরচগুলো যেন আগামী দিনে জনগণের ওপর বা ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপাতে হয়। প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করা না গেলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমরা টিকে থাকতে পারবো না। প্রতিযোগিতায় টিকতে পারলে আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথ সুগম হবে।
তিনি বলেন, আগামী দিনে বন্দর ও কাস্টমস যেন যৌথভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দর ও কাস্টমস একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা আরও আগে থেকেই ছিল। এখন আমরা বসেছি। আজ দুপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বন্দর ও কাস্টমসের সমস্যাগুলো একত্রে বসে সমাধান করা যাবে। এসব সিদ্ধান্ত সহসা কার্যকর হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, অনেক বেশি কার্যকর হবে, কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস হবে, কম সময়ের মধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হবে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের আস্থা তৈরি হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ভালো হতে থাকবে। মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে।
চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, যারাই বন্দর পরিচালনা করুক না কেন, জনগণ, ব্যবসা, ইন্ডাস্ট্রি ও সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে তাদের চালিত হতে হবে। বন্দর কে চালাবে না চালাবে, এটা আমাদের বিষয় নয়। যার হাতে বন্দর থাকবে, দেশি হোক বা বিদেশি, তাদের এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে।
বন্দর শিল্পকারখানা চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প কারখানাগুলো যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তারা যেন বাধার মুখে পড়তে না হয়, যেন ব্যবসায়িক খরচ কমে আসে এবং তারা যেন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টিআইএস