মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি-আমতলী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে যানজট লেগে ছিল। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়নামতি-আমতলী এলাকার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এসব অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলার মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।
সোমবার রাত ৯টার দিকে টানা বৃষ্টিতে সড়কের ভাঙা অংশগুলোতে পানি জমে যায়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হলে রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের জটলা শুরু হয়। রাতভর যানজটের পর মঙ্গলবার দিনভরও ওই এলাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করেছে।
চালকদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দে ইট-বালু দিয়ে জরুরি মেরামতের চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টি হলেই সেসব স্থানে আবার পানি জমে যায়। এতে যানবাহন আটকে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
কুমিল্লা থেকে বাসে ঢাকায় যাওয়ার পথে মাদরাসা অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন সরকার বলেন, শাসনগাছা থেকে সকালে ঢাকার বাসে রওনা দিয়ে ময়নামতি আসতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ মিনিট লাগে, সেখানে মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে।
কলেজ শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ময়নামতি থেকে কুমিল্লা নগরীতে আসার পথে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।
হাইওয়ে ময়নামতি থানার এসআই আনিসুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানজট দেখা দেয়। সারা রাত আমরা রাস্তায় ছিলাম। মঙ্গলবার দিনভর ধীরগতিতে যানবাহন চলেছে।
তিনি বলেন, ভাঙা সড়ক মেরামত না করা পর্যন্ত এ এলাকার যানজট ও যাত্রীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কমবে না।
এদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ময়নামতি সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে জরুরি সংস্কারকাজ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমলে সেখানে স্থায়ীভাবে সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে।
সড়ক উপবিভাগ (গৌরীপুর)-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং যানজট দেখা দেয়। আমরা জরুরি মেরামত করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে নতুন করে ঢালাইয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
আরএন