এক শিফটে ক্লাস চালু এবং ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম ও নবম শ্রেণির কয়েকশ শিক্ষার্থী পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘তুমি কে, আমি কে—কালো ছেলে, কালো ছেলে’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে—প্রশাসন, প্রশাসন’, ‘শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা—চলবে না, চলবে না’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন—ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘ইউ ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টা থেকে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস শুরু হওয়ায় তাদের নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকার পর কোচিং ও প্রাইভেট পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলেও পড়েছে বলে দাবি তাদের।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুশান্ত চন্দ্র ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। মাইকে তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘেরাও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও স্কুল শাখার উপাধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে এসে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান থেকে সরে যাননি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিফট প্রথা বাতিলের দাবি নিয়ে তারা প্রায় এক মাস আগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে তাদের ‘কালো ছেলে’ বলে সম্বোধন এবং ৫০৬ শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, ওই সময় কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এক মাস পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভবনের সংকটের কারণে এক শিফটে ক্লাস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ভবনের সংকটের কারণে এক শিফটে ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হলে কয়েক দিন পরই কীভাবে নতুন করে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলো। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছে জানতে চেয়েও তারা সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারা এসপি কার্যালয় ঘেরাও করেছেন।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে। তাদের ভাষায়, ‘পুলিশ লাইন্স স্কুলকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে।’ এক শিফটে ক্লাস চালুর নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন। ‘কালো ছেলে’ বলে সম্বোধন এবং টিসি দেওয়ার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওরা আমার সন্তান। এ ধরনের কোনো কথা আমি আমার সন্তানদের বলিনি। আমরা ওদের দাবিটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কীভাবে বিষয়টির সমাধান করা যায়, সেটাই ভাবছি।”
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনে একসঙ্গে প্রায় চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এ কারণে দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। সকালের শিফটে ছাত্রী এবং দুপুরের শিফটে ছাত্রদের ক্লাস নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শিফট পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”
ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও নাকচ করে পুলিশ সুপার বলেন, “আমাদের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয় না। স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় কিছু আসন শূন্য হওয়ায় সেসব আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শূন্য আসন পূরণের জন্যই নতুন করে ভর্তি কার্যক্রমের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এলওয়াই/আরএন