একদিন আগেও যে ক্ষেত ছিল ফলন্ত কাঁকরোলে ভরা, পরদিন সকালে সেখানে পড়ে ছিল গোড়া থেকে কেটে দেওয়া অসংখ্য গাছ। কয়েক মাসের শ্রমে গড়ে তোলা ৬০ শতকের সেই ক্ষেত দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন কৃষক আবুল হাসেম। তার দাবি, দুর্বৃত্তরা গাছগুলো কেটে দেওয়ায় প্রায় ৮ লাখ টাকার সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের সেম্প্রুপাড়া এলাকার আমতলী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আবুল হাসেম জানান, তিনি প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষি। এবার প্রায় ৬০ শতক জমিতে কাঁকরোল চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। জমি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার কাঁকরোল বিক্রি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষেত থেকে প্রায় ৩০০ কেজি কাঁকরোল তোলেন আবুল হাসেম। শুক্রবার সকালে সেগুলো বিক্রি করে পান ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর ক্ষেতে ফুলের পরাগায়নের কাজে গিয়ে দেখেন, কে বা কারা ফলন্ত কাঁকরোলগাছগুলোর গোড়া কেটে দিয়েছে।
আবুল হাসেমের আশা ছিল, বাজারে সবজির চাহিদা বাড়ায় এবার কাঁকরোল বিক্রি করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করবেন। গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনায় সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়েছে।
আবুল হাসেম বলেন, আমি প্রান্তিক একজন কৃষক, বর্গাচাষি। কঠোর পরিশ্রম করে ক্ষেতটি দাঁড় করিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, এবার কিছু টাকা আয় করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। কিন্তু কে বা কারা এমন কাজ করেছে, জানি না।
স্থানীয় বাসিন্দা আদম আলী বলেন, মানিকছড়ির অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। একজন কৃষকের পরিশ্রমের ফসল এভাবে কেটে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, এমন ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিআইএস