মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় পরিত্যক্ত জমির ঝোপ পরিষ্কারের পর মাটি খোঁড়ার সময় ছয়টি ধাতব বস্তু পাওয়া গেছে। দেখা গেছে বক্সসদৃশ কয়েকটি বস্তু। ধাতব বস্তুগুলোর ওপর লেখা ‘মাইন ১৯৬৭’।
শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বস্তুগুলো বিস্ফোরক-জাতীয় কিছু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামান কালু তাঁর পরিত্যক্ত জমির ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন। ওই জমিতে শ্রমিকেরা মাটি কাটার সময় কোদালের আঘাতে অন্তত ছয়টি ধাতব ভেসে ওঠে। শ্রমিকেরা এগুলো দেখতে পেয়ে জমির মালিক কালুকে খবর দেন। কালু গাংনী থানায় এ ঘটনা জানান। দ্রুত পাশের ফাঁড়ি থেকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে জায়গাটি ঘিরে ফেলেন। ঘটনাটি আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ জড়ো হন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওই জায়গায় মাইনসদৃশ ছয়টি বস্তু পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়গাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বস্তুগুলোর গায়ে লেখা ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বস্তু। বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
নুরুজ্জামান কালু বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে বাড়ির পেছনের জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। জায়গার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করছি। ওই জায়গায় নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। এ সময় তাঁরা ধাতব বস্তুগুলো দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’
গাংনী থানা-পুলিশ জানায়, মাইনসদৃশ বস্তুগুলো সক্রিয় নাকি নিষ্ক্রিয়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, ওই জায়গায় মাইনসদৃশ ছয়টি বস্তু পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়গাটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বস্তুগুলোর গায়ে লেখা ‘পি ডি এফ জি এল ৬৩, লট ৩৭, মাইন ১৯৬৭’। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বস্তু। বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।
টিআইএস