ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই রাজপথে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপি ও জামায়াত এই আন্দোলনে ছিল না। কিন্তু আন্দোলন সার্থক হওয়ার পর যে যার মতো নিজেদের আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড দাবি করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা গোপনে কারোর সঙ্গে আঁতাত বা কন্ট্রাক্ট করে আন্দোলন করেনি। রাজপথে থেকে সশরীরে আন্দোলন করেছে। সবার বাঁচার পথ থাকলেও আমাদের বাঁচার পথ ছিল না।
বুধবার বিকেলে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো বিবৃতি বা অংশগ্রহণ ছিল না। তারেক রহমান দেশেই ছিলেন না। ফখরুল সাহেব বলেছেন, আন্দোলন আমাদের না। জুলাই বিপ্লবের আগে শফিক সাহেবকে এ দেশের মানুষ ভালোভাবে চিনতই না। যদি আন্দোলন সার্থক না হতো তাহলে তাদের বের হওয়ার অনেক জায়গা ছিল। এরা আওয়ামী লীগকে বলত আমরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না, আমরা আপনাদের পক্ষে ছিলাম।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আজকে অনেকে রাজা হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় গিয়েছেন। আমরা রাস্তায়, ট্যাংকের সামনে ছিলাম। ফাঁসির রশির তোয়াক্কা না করে দেশ, ইসলাম, মানুষের বৈষম্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে ফয়জুল করীম বলেন, মানুষকে জাঁতাকলে পিষ্ট করার জন্য আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল?
সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, সরকারি দল, বিরোধী দল আবার মারামারি শুরু হয়ে গেছে। অন্যায় করলে সংসদে ফয়সালা করুন, ক্যাম্পাসে মারামারি করেন কেন? হল ছাড়তে বাধ্য করা, ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা- এগুলো কেন করছেন। এর জন্য কি আন্দোলন হয়েছে, ছাত্ররা জীবন দিয়েছে।
তিনি সরকারকে বলেন, আসলে আপনার শিক্ষা হয়নি। মিঠা কথায় পেট ভরে না। নরম নরম কথা বলবেন আর গ্যাস, তেল, বিদ্যুতের দাম বাড়াবেন, বাংলাদেশের মানুষ নীরব আছে। তবে নীরবতা যখন ভাঙবে বিগত সরকারের মতো আপনাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। যদি ভালো কাজ করেন তাহলে বন্ধু, আর যদি খারাপ কাজ করেন, ইসলামের সঙ্গে গাদ্দারি করেন, দেশের জনগণের সাথে বেইমানি করেন, যদি খুন হয়, গুম হয়, মায়েরা ধর্ষিত হয়, বিধবা হয়, তাহলে আন্দোলন হবে, সংগ্রাম হবে।
এর আগে ইসলামী আন্দোলন বরিশাল মহানগর শাখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ লোকমান হাকিম।
সমাবেশ শেষে নগরীতে গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এসএ