সমকামিতার অভিযোগে হল সংসদের এক প্রতিনিধিকে ঘিরে চলা তদন্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধের জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ফিরে আসার আশঙ্কাও নতুন করে সামনে এসেছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল প্রভোস্ট কার্যালয়ের ভেতরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সে সময় হল কর্তৃপক্ষ গঠিত একটি তদন্ত কমিটি হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহিম খলিল ও তার রুমমেটদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল।
গত ২৭ জুলাই ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে সমকামিতার অভিযোগে দুই অতিথিকে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তার আবাসিক আসন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এদিকে প্রভোস্ট কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের এক কর্মী তাদের ছবি তুলেছেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রথমে ধস্তাধস্তি এবং পরে প্রভোস্ট কার্যালয়ের ভেতরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রশিবির-সমর্থিত নেতা তৌকির হাসান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “দুপুর আড়াইটার দিকে হলের তদন্ত কমিটির ডাকে তদন্তে অংশ নিতে যাই। হল সংসদের এজিএস এবং তাঁর রুমমেটকেও ডাকা হয়েছিল। তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই ছাত্রদলের দুই কর্মী তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে পরিস্থিতি দেখতে আমি প্রভোস্ট অফিসে যাই। সেখানে হাউস টিউটররা সবাইকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলেন। এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেয় এবং আমরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করি। তারা অভিযোগ তোলে, ছাত্রশিবিরের এক কর্মী তাদের ছবি তুলেছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারা ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা সবাই প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নিই। সেখানে কী ঘটছে, তা ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হয়।”
তৌকির আরও অভিযোগ করেন, ঐ ভিডিওকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদল পুনরায় হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচজন হাউস টিউটরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের আচরণ ছিল ‘অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ’।
শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক হক বলেন, “গতকালের (শনিবার) ঘটনায় ছাত্রশিবির তাদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সমকামিতাকে প্রমোট করতে গিয়ে শিবির বিভিন্নভাবে তাকে (এজিএসকে) ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছে এবং এজন্য নানা ধরনের মিথ্যাচার শুরু করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, “খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টররা ঘটনাস্থলে যান। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।” তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে।
সংঘর্ষের পর শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ডাকসু ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ জুলাই মাস্টারদা সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে এক আবাসিক শিক্ষার্থী ও এক বহিরাগত অতিথিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। হল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।