কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বেতন বৃদ্ধি ও ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনরত জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
আন্দোলন চলাকালে কয়েক দফা জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কারখানার সামনের অংশ ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশের অবস্থানের কারণে ফটকের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালে শ্রমিক আন্দোলনের পর তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিলেও অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এরই প্রতিবাদে গত ২৭ জুলাই থেকে কাজ বন্ধ রেখে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করাসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা।
জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির মালিক গোলাম মোস্তফা বলেন, শ্রমিকদের চলমান দাবিগুলোর অধিকাংশই ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে শ্রমিক প্রতিনিধিরা কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও একটি অংশ আবার বিশৃঙ্খলা শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বেতন বৃদ্ধির দাবি তার পক্ষে মানা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, শ্রমিকরা সাময়িক সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত করার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এআর/আরএন