দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি. ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সমন্বিত লোকসানের মুখে পড়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এমন নাটকীয় পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ছিল ২৮৮ কোটি টাকা। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ১ হাজার ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকায় পৌঁছায়। ফলে ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা।
ব্যাংকটির দাবি, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা অর্থ থেকে আয় হ্রাস পাওয়াই এই বড় লোকসানের প্রধান কারণ।
ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে থাকায় সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। অন্যদিকে আমানতকারীদের নিয়মিত মুনাফা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা আমানতের বিপরীতে মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থ নিয়মিত আদায় হচ্ছে।
তবে সংকট কাটিয়ে ওঠার আশাও দেখছে ব্যাংকটি। কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ, অনাদায়ী ঋণ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। ইতোমধ্যে গত দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে বলেও জানানো হয়েছে।
একসময় টানা পাঁচ বছর মুনাফায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের এই বড় লোকসান দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং করপোরেট ঋণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
-টিএস