ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
অর্থ ও ঋণের কঠিন পরীক্ষায় সরকার
✎ বিশেষ প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
প্রতীকী ছবি
X
Advertisement

প্রতীকী ছবি

নতুন ঋণ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়লেও বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ, কম রাজস্ব আয় এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতায় কঠিন আর্থিক পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা অর্থায়ন বাড়াতে আগ্রহী হলেও এর সঙ্গে রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংক সংস্কার, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্তও জোরালো হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাজার, তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও ঋণের বোঝাও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্বেগের কারণ। ফলে অর্থায়নের সঙ্গে সংস্কারের চাপও বাড়ছে।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া পুরোনো আইএমএফ কর্মসূচির কিস্তি ছাড় এখন আর সম্পর্কের মূল বিষয় নয়। নতুন সরকার নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চেয়েছে। জুনে আইএমএফ সেই অনুরোধের কথা জানায়। ১২ থেকে ১৬ জুলাই সংস্থাটির একটি দল ঢাকা সফর করে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও সংস্কারের অগ্রাধিকার পর্যালোচনা করে।

আইএমএফ বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও অত্যন্ত কম রাজস্ব আহরণকে নতুন কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে নতুন অর্থায়নের সঙ্গে রাজস্ব, ব্যাংক, ভর্তুকি, বিনিময় হার ও আর্থিক খাত সংস্কারের চাপও বাড়বে।

গত ২৪ জুন ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এর লক্ষ্য আমানত সুরক্ষা জোরদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কারের ভিত্তি তৈরি। এদিকে এডিবির প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে ২০২৬ সালের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি হয়। মাঝারি মেয়াদে বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে বাড়ানোর পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগে পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। চলতি বছর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন সংস্কারে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে।

জুনে জাইকা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহে সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের ঋণ চুক্তি করেছে। কর্মসূচিটি এডিবির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বিত।

উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহের পেছনে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে এলডিসি উত্তরণ। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার কথা। তবে প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। উত্তরণের পর বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা ও সহায়তার ধরন বদলে যাবে। তাই দীর্ঘ সময় রেয়াতি ও প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়ন ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

এর মধ্যেই বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে, জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে আসল ও সুদ মিলিয়ে পরিশোধ করেছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ হয়েছে ২ দশমিক ০৪৭৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের সুদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি এবং বিদেশি ঋণের ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ জিডিপির প্রায় ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ এখনো ‘মাঝারি’ ঋণঝুঁকিতে থাকলেও রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ বড় দুর্বলতা।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সংস্কার বাস্তবায়িত হলে মাঝারি মেয়াদে প্রায় ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজস্ব ও ব্যাংক খাতে সিদ্ধান্তমূলক সংস্কার না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং মাঝারি মেয়াদে ৩ শতাংশের নিচেও থাকতে পারে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, দুর্বল রাজস্ব আহরণের বিপরীতে সরকারি ব্যয় ও ঋণনির্ভরতা বাড়ায় বাংলাদেশের আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। তাই শুধু নতুন ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ নেই; রাজস্ব বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন আইএমএফ কর্মসূচিতেও পুরোনো সংস্কারের প্রশ্নগুলো ফিরে আসবে। রাজস্ব, ব্যাংক খাত, বিনিময় হার ও জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে আইএমএফ সময় দিতে পারে, কিন্তু সংস্কার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বৈদেশিক ঋণের প্রবাহের চেয়ে ঋণ পরিশোধ বেড়ে যাওয়াকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, নতুন অর্থায়নের অঙ্ক নয়, ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ কতটা আয় ও পরিশোধ সক্ষমতা তৈরি করতে পারছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সামনে অনুদানের তুলনায় ঋণ ও নীতিনির্ভর অর্থায়ন বাড়বে। ঋণের পরিমাণের চেয়ে ঋণের মান ও পরিশোধ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে দাতা অর্থকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

সব মিলিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও মূল পরীক্ষা হবে সেই অর্থের ব্যবহার, রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।

এসএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement