রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতিতে এক হাজার ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এরই মধ্যে ৩০০ ফিট সড়কে (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) এসব ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক বিভাগের নতুন উদ্যোগ পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।
তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হওয়ায় বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যে দ্রুত বেশি এলাকা কভার করতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ পদ্ধতিতে ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে সরাসরি ভিডিও ধারণ হবে। পরে ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধাপে ধাপে প্রায় এক হাজার নতুন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এআই ক্যামেরা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীতে বর্তমানে ১৩টি সিগন্যালে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু আছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, ভারী বৃষ্টি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সবসময় এসব সিগন্যাল সচল রাখা সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মোটরচালিত ও অ-মোটরচালিত যানবাহনের সমন্বয় করাও অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি আরও জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে আরও ৫০টি সিগন্যাল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অবকাঠামো প্রস্তুত হলেই সেগুলো চালু করা হবে।
সড়কে শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যানজট না থাকলেও অনেক গাড়ি অপ্রয়োজনে হুটার ও হর্ন ব্যবহার করে। এতে ট্রাফিক পুলিশের শ্রবণশক্তিসহ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অবৈধ হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অবৈধ লাইটের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়ম ভাঙার প্রবণতা এখনও অনেক বেশি। একটি বাসযোগ্য শহর নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি জানান, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজারের বেশি মামলা হয়। এসব মামলায় বছরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার যানজট কমাতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ। ধানমন্ডি থেকে বসিলাগামী সড়কের একটি সড়ক বিভাজক তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তিনটি সিগন্যালের পরিবর্তে দুটি সিগন্যাল করা হয়েছে।
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যানজট কমাতে রাস্তার মাঝের একটি আইল্যান্ড অপসারণ এবং সিগন্যাল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন ধানমন্ডির পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে সরাসরি ডানদিকে মোড় নিতে পারবে না। তাদের ময়ূর ভিলার সামনে ইউ-টার্ন নিয়ে আসাদ গেট এলাকায় প্রবেশ করতে হবে।
ট্রাফিক পুলিশের আশা, একটি সিগন্যাল কমে যাওয়ায় যানবাহনকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না এবং সড়কে চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কের সক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় সর্বোচ্চ সড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
-টিএস