গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ২০২৬ -এই দু’টি দিন ছিল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ওয়ার্কিং কমিটির জন্য এক অন্যরকম অনুভূতির সময়। ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবন আর কাজের ক্লান্তি ভুলে কমিটির সদস্যরা মেতে উঠেছিলেন হাওরের স্নিগ্ধ রূপ ও আনন্দের উৎসবে। দু'দিনের এই অবিস্মরণীয় সফরে ভ্রমণ ডায়েরিতে যুক্ত হয়েছিল পাকুন্দিয়া, ইটনা, নিকলী, অষ্টগ্রাম এবং মিঠামইনের রূপকথা।
ভ্রমণের শুরুতেই যুক্ত হয়েছিল এক বিশেষ স্মৃতি। যাত্রাপথেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী স্যারের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হই আমরা সবাই। তিনি পুরো দলকে তাঁর নিজ গ্রাম পাকুন্দিয়ায় এক রাজকীয় মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান। তাঁর গ্রামের বাড়ির আতিথেয়তা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা পুরো ভ্রমণের আনন্দকে শুরুতেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
নিকলী হাওরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা রিসোর্টে কেটেছে আমাদের রাতের মুহূর্তগুলো। উম্মুক্ত প্রকৃতির স্নিগ্ধ হাওয়া, বিশাল হাওরের বুকে ট্রলারের দোলুনি, হাওরের তাজা মাছের স্বাদ, আর বেড়িবাঁধ ধরে আনমনে হেঁটে বেড়ানো -সব মিলিয়ে সময় যেন থমকে গিয়েছিল। আড্ডা আর সুরের মূর্ছনায় মেতে উঠেছিল চারপাশ।
ভ্রমণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি ছিল, যখন সবাই মিলে হাওরের স্বচ্ছ জলে নেমে পড়া। আমাদের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার নিজে পানিতে নেমে সবাইকে আরও আনন্দিত ও উজ্জীবিত করে তোলেন।
এরপর হাওরের বুক চিরে জেগে থাকা নয়নাভিরাম নিকলী-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার রোড ধরে আমাদের যাত্রা এগিয়ে চলে। পথিমধ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদের আগমন উপলক্ষ্যে মিঠামইন কলেজে আয়োজন করা হয়েছিল এক প্রাণবন্ত ও মনোজ্ঞ সুরের আসর।
সম্মানিত উপস্থিতি ও সুনিপুণ আয়োজন আনন্দঘন এই ভ্রমণে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে সফরকে উজ্জ্বল করেছিলেন: ড. আবুল বাশার খান, রেজিস্ট্রার, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, প্রফেসর ড. আবু বিন ইহসান, কনভেনার (ট্যুর কমিটি) ও ডিন, জীবন বিজ্ঞান অনুষদ, প্রফেসর ড. মো. আব্দুল্লাহ আল হুমায়ুন, বিভাগীয় প্রধান, ইইই বিভাগ, সৈয়দ হাবিব আনোয়ার পাশা, বিভাগীয় প্রধান, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই দারুণ এবং সফল সফরটির চমৎকার পরিকল্পনা, সমন্বয় ও নিখুঁত বাস্তবায়নের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ট্যুর কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি এবং পাবলিক রিলেশন্স অফিসের প্রধান - সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন মজুমদার (আনন্দ)।
মেঘ আর পানির মধ্যে এই দু’টি দিন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি পরিবারের হৃদয়ে এক সুন্দর স্মৃতি হয়ে জমা থাকবে চিরকাল।
লেখক: মহিউদ্দিন মজুমদার আনন্দ, সাংবাদিক ও প্রধান সহকারী পরিচালক ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।
-টিএস