নীল জলরাশির বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে বিশাল আকৃতির একটি দ্বিতল কাঠের হাউজবোট। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে ভারতের কেরালার বিখ্যাত আলেপ্পি হ্রদের কোনো বিলাসবহুল হাউজবোট। তবে এটি দেশেরই পর্যটন নগরী রাঙামাটার কাপ্তাই হ্রদে। একদল তরুণ উদ্যোক্তার উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঠের তৈরি হাউজবোট ‘রয়েল অ্যাডভেঞ্চার’।
সম্প্রতি কাপ্তাই হ্রদে উদ্বোধন করা হয়েছে বিলাসবহুল এই প্রমোদতরী। উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় দ্বিতল কাঠের হাউজবোট।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা। এছাড়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সেলিনা আখতারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর অতিথিদের নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণ করে হাউজবোটটি।
বৃষকেতু চাকমা বলেন, রাঙামাটি পাহাড়, হ্রদ ও ঝরনার অপূর্ব সমন্বয়ের একটি পর্যটন জেলা। হ্রদের বুকে এমন আধুনিক হাউজবোট পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে এবং স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
হাজী মো. মুছা মাতব্বর বলেন, এ ধরনের হাউজবোট সাধারণত বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যায়। রাঙামাটিতে এমন একটি উদ্যোগ পর্যটন শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রয়েল অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মহিউদ্দিন মজুমদার জানান, পর্যটকদের জন্য আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতেই এই হাউজবোট নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাউজবোটটিতে রয়েছে মোট আটটি কেবিন। এর মধ্যে ব্যালকনিসহ দুটি সুপার প্রিমিয়াম কেবিন রয়েছে। প্রতিটি কেবিনে সংযুক্ত ওয়াশরুম, আরামদায়ক বেড এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে চারজন করে অবস্থান করতে পারবেন।
হাউজবোটের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে প্রশস্ত রেস্টুরেন্ট। বোটেই রান্নার ব্যবস্থা থাকায় পর্যটকদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে রাঙামাটির খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান পরিচালক মো. ফারুক।
পর্যটকদের জন্য বোটটিতে থাকা, খাওয়া ও ভ্রমণের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে আলাদা করে রিসোর্টে থাকার প্রয়োজন হয় না। কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান-ঝুলন্ত সেতু, শুভলং, পেদা টিংটিং, চাকমা রাজবাড়িসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বোটেই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার থেকে আসা পর্যটক লাবণী সেন বলেন, ছাদে কৃত্রিম ঘাসের কার্পেটে বসে হ্রদ ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। কক্ষের ভেতর থেকেও চারপাশের দৃশ্য দেখা যায়, যা ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা শেফালিকা চাকমা বলেন, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে এই হাউজবোটের নকশা ও পরিবেশ বেশ মানানসই। প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ থাকায় এটি পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দিন এক রাতের প্যাকেজে পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হয়। প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে এক রাতের আবাসন, ছয় বেলার মূল খাবার, চার বেলার নাস্তা এবং নির্ধারিত পর্যটন স্পট ভ্রমণ। প্রতি কক্ষে চারজন অবস্থান করলে জনপ্রতি প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
বুকিং ও বিস্তারিত তথ্য: ০১৭৯৫-৮০৩৭৩১।
-টিএস