স্বল্প আয়ের মানুষের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ন্যায্যমূল্যে ছোট পরিমাপের প্যাকেটজাত ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল বাজারে সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, খোলা ভোজ্যতেলের পরিবর্তে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন প্যাকেটজাত তেল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলনকক্ষে ‘স্বল্প আয়ের ভোক্তার ভিটামিন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যের ছোট পরিমাপের প্যাকেজিং: জনমত সৃষ্টি সংক্রান্ত আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম বিভাগ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তবে টেকসই পরিবর্তনের জন্য উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জমান বলেন, খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন তেল নিশ্চিত করতে সরকারকে ছোট পরিমাপের প্যাকেটজাত ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও বাজারজাত বাড়াতে হবে।
বক্তারা বলেন, দেশে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’-এর ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু খোলা তেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় ভিটামিন সমৃদ্ধকরণের সুফল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।
তারা জানান, ২০১৩ সালে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক করা হলেও খোলা তেল বিক্রির কারণে এর সুফল সীমিত রয়েছে। ছোট পরিমাপের প্যাকেট চালু হলে কম আয়ের মানুষও সহজে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ তেল কিনতে পারবেন।
সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটারের পাউচ, মিনি প্যাক বা স্যাশে ধরনের প্যাকেজিং স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের জন্য কার্যকর হতে পারে। এতে কম দামে তেল কেনার সুযোগ তৈরি হবে এবং দীর্ঘদিন খোলা অবস্থায় থাকার কারণে পুষ্টিমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
বক্তারা আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুডগ্রেড প্যাকেজিং ব্যবহার, শুল্ক ও কর সুবিধা প্রদান এবং প্রয়োজন হলে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সভায় ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, প্যাকেজিং শিল্প, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুষ্টিবিদ, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এমআর/এসআর