ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
নিয়ামতপুরে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক, শ্রমিক সংকটে ভোগান্তি
✎ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
X

নওগাঁর নিয়ামতপুরে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তি। বৃষ্টির পানিতে জমি প্রস্তুত হওয়ায় পুরোদমে রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে একই সময়ে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক কৃষককে বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা জমি চাষ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও ধানের চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বর্ষার পানির ওপর নির্ভর করে কম খরচে আমন ধান চাষ করে লাভের আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

এবার উপজেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। স্বর্ণা, ব্রি ধান-৩৪, ৪৯, ৫১, ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০৩ এবং বিনা-৭, ১৭, ২০, ২২ ও ২৬ জাতের ধান বেশি চাষ করছেন কৃষকরা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদিত ধানের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬৩৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

হাজিনগর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক তোতা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ২৪ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করছি। আষাঢ়ের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় সেচ দিয়ে রোপণের কাজ শুরু করেছিলাম। পরে বৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত সব জমিতে চারা রোপণ শেষ করতে পেরেছি।’

পাড়ইল ইউনিয়নের তুলারবাঐল গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা মূলত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমন চাষ করি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু কিছু বীজতলার চারা রোপণ বাকি।’

তবে শ্রমিক সংকটের কথা জানিয়েছেন শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের কৃষক জায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করব। জমি প্রস্তুত করা শেষ হলেও তিন দিন ধরে শ্রমিক খুঁজছি। মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না। বর্তমানে চারা তোলা থেকে রোপণ পর্যন্ত বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মজুরি চলছে। আমি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিতে চাইলেও শ্রমিক মিলছে না।’

হাজিনগর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, ‘১৫ বিঘা জমিতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা হয়েছে। এখন আদিবাসী নারী শ্রমিকদের দিয়ে রোপণের কাজ চলছে।’

আরেক কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমেছে, খাল-বিলও পানিতে পূর্ণ হয়েছে। এখন কৃষকরা ধান রোপণে ব্যস্ত।’

নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের কাজ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে রোপা আমন লাগানো হয়েছে। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝির মধ্যে রোপণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমনের আবাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসআর



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝