খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ী (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে একই কক্ষে বসবাসকারী অন্তর সরকার (২১) নামে আরেক যুবক পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডের একটি বাড়ির নিচতলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার বেতরা এলাকার হেরালাল দেউড়ীর ছেলে বিশ্বজিৎ দেউড়ী এবং মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লিটন সরকারের ছেলে অন্তর সরকার গত জুন মাস থেকে সরল গ্রামের বাসিন্দা রামপ্রসাদ মণ্ডলের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। বিশ্বজিৎ আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) এবং অন্তর একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মঙ্গলবার কর্মস্থলে বিশ্বজিৎকে পাওয়া না গেলে কোম্পানির ডিলাররা তার খোঁজ নিতে বাসায় যান। সেখানে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে কক্ষের সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) আমীর হামজা, পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলীসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে। পরে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় বিশ্বজিৎ দেউড়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল জানান, প্রায় দেড় মাস আগে ওই দুই যুবক কক্ষটি ভাড়া নেন। তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানতেন না।
ওসি জুলফিকার আলী বলেন, কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। সেখানে দুইজন বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলের সিঁড়ির নিচে বিশ্বজিতের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেলেও অন্তর সরকার এবং তার মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়নি। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আলামত সংগ্রহে সিআইডির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
এএস/এসআর