নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাতদল ও গরু চোর চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বগুড়া ও নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বগুড়া শহরের বাসিন্দা গোলাম রাব্বানী এবং নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর গ্রামের পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) ও একই গ্রামের শ্রী সুচন্দন রাজবংশী (২৭)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছি ও মহাদেবপুর উপজেলায় কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা বিশ্লেষণের জন্য একটি চৌকস দল গঠন করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রানীনগর থানা পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ২১ জুলাই রাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-বগুড়ার সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা শাখা কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, এরপর র্যাব বগুড়ার কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের সহায়তায় নাটোরের সিংড়ায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ ও রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বড় দল গভীর রাতে নাটোরের সিংড়ায় পাঠানো হয়। নাটোর থেকে র্যাবের একটি দল নওগাঁ জেলা পুলিশের দলের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে পরিচালিত অভিযানে নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাট তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত দুই গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, নওগাঁ, নাটোর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া কেন্দ্রিক কয়েকজন কুখ্যাত গরু চোর সংঘবদ্ধ হয়ে এ অঞ্চলে গরু চুরি ও ডাকাতি করে আসছে। নাটোরে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রী সুজিত ওরফে অজিত এবং সুচন্দন এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মূলত বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি বা ডাকাতি করা গরু এখানে কিছুদিন লালন-পালন করার পর বিক্রি করা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে তারা এসব অঞ্চলে গরু চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
কেএইচ/আরএন