টানা একাদশ রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ সময় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৭টা (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) থেকে হামলা শুরু হয়।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা আরও দুর্বল করা হামলার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
তাবরিজে হামলার খবর নিশ্চিত হলে, তা সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন হবে। কারণ, সর্বশেষ দফার বেশিরভাগ হামলা দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় তৎপরতার শব্দ শুনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের আশপাশেও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করার পর পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান নিজ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিও কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে দিতে সক্ষম হয় ইরান। এ যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।
গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তিকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করলে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায় দুই দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় হামলা শুরুর পর থেকে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
এসএ