বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি রাসায়নিক সার অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিলগালা করা একটি সার গুদাম খুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, একটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি রাসায়নিক সার নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য ইউনিয়নে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত রোববার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বিএডিসির ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাদের গুদাম সিলগালা করা হয়। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, গুদাম সিলগালার দুই দিন পর মঙ্গলবার ওই ডিলার প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি বিভিন্ন দপ্তরে তদবির শুরু করেন। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে সিলগালা করা গুদাম খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের কৃষক হেদায়েতুল ইসলাম শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সারবোঝাই দুটি ভুটভুটি দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন জানা যায়, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাট এলাকার বিএডিসি ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে নেওয়া হচ্ছিল।
বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে প্রাথমিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। পরে ডিলার এম এ কাসেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। তবে তিনি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে সার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবি করেন, সারগুলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন সার ডিলারের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ ছাড়া সার পরিবহন করা হলে তা নীতিমালার লঙ্ঘন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা ও গুদাম সিলগালার ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, “সিলগালা করা গুদাম খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসএইচকেএস/এসআর