রংপুর নগরীর প্রয়াস পার্কে মেলার আড়ালে হাউজি, জুয়া ও লটারির আয়োজন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘জাগ্রত রংপুর সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ১১ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন সংহতি জানায়।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে জীবনবীমা মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তারা জুয়া, হাউজি, লটারি ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, অ্যাডভোকেট তারেকুজ্জামান তারেক, অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, কারমাইকেল কলেজের সাবেক জিএস আবুল কালাম আজাদ ও শামসুদ্দিন সুজা প্রমুখ।
এতে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ, অঙ্গীকার শিল্পীগোষ্ঠী, পায়রা শিল্পীগোষ্ঠী, এনসিপি, লেবার পার্টি, জাগপা, বিশিষ্ট আলেম সমাজ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কেরানিপাড়া মৌবন এলাকার গৃহবধূ মেরিনা পারভীন শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে বলেন, “আমি চাই না, আমার সন্তান বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নেশার টাকার জন্য কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ুক। কোনো মা যেন সন্তানের হাতে প্রাণ না হারান। সেই আশঙ্কা থেকেই আমি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এই মানববন্ধনে এসেছি।”
মণ্ডলপাড়া এলাকার অভিভাবক লাকি জামান বলেন, মেলার নামে জুয়া ও হাউজি পরিচালিত হওয়ায় অনেক তরুণ এতে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবারে অশান্তি বাড়ছে এবং অর্থের জন্য সন্তানরা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তিনি।
ঘাঘট এলাকার আতিকুল ইসলাম বলেন, মেলার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
জুম্মাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মোমিন বলেন, মেলার সময় চুরি-ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ে। এতে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, মেলার নামে জুয়া ও মাদকের বিস্তারের মাধ্যমে রংপুরবাসীকে শোষণ করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত এসব কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান বলেন, রংপুরের মানুষ এ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সমাজ ধ্বংসের কারণ হতে পারে—এমন কোনো কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, প্রয়াসের মানবিক কর্মকাণ্ডকে সম্মান জানালেও মেলার আড়ালে জুয়া, হাউজি, লটারি বা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।”
এলওয়াই/এসআর