জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি-এলএসডি) জন্য নির্মিত ভবন ব্যবহারের আগেই একাংশ ভেঙে মাটিতে দেবে গেছে। সীমানা প্রাচীরেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল।
রডবিহীন পিলার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজ করে ভবনটি দায়সারাভাবে হস্তান্তর করে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনে ‘পুকুরচুরি’ প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে পৌরসভার ধানাটা এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৪ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস এটি নির্মাণ করে। ২০২১ সালে কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ২০২৪ সালে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হস্তান্তরের শুরু থেকেই এটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। উত্তর পাশের একটি কক্ষসহ ভবনের একাংশ ভেঙে ও ধসে মাটিতে পড়ে বড় গর্ত হয়ে গেছে। ভবনের দেয়াল ও অন্য অংশজুড়ে ফাটল ধরেছে। সীমানা প্রাচীরেও দেখা দিয়েছে লম্বা ও একাধিক ফাটল। ফের ভারী বর্ষণ হলে নিচ থেকে মাটি সরে প্রাচীর ও ভবন পুরোপুরি ভেঙে পাশের খালে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবিনা খাতুন জানান, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, শুরু থেকেই পুরাতন ভবনে অফিস করে আসছি।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামছুল হক অভিযোগ করেন, “ভবনের পিলারে কোনো রড দেওয়া হয়নি, নির্মাণকাজে নানা ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। হস্তান্তরের শুরু থেকেই ভবনে বেশ কিছু ফাটল দেখা দেয়, তাই এটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা হয়নি। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির ফলে ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যায় এবং একাংশ ভেঙে পড়ে।”
এ ব্যাপারে জামালপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান খান বলেন, “বিষয়টি শোনার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এছাড়া গতকাল ময়মনসিংহের আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু হুরায়রা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী করণীয় বিবেচনা করবে।”
জেডজেড/এসআর