খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী।
তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, সিদ্দিক, ওয়াসিম ওরফে দাদ ওয়াসিম এবং জব্বার। এদের মধ্যে শুধু গাড়ি ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের খবর আগে থেকেই জানতে পেরে অন্য আসামিরা আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহিউদ্দিনের ছেলে মো. হায়দার ওরফে কানা হায়দার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি মাটিয়াপুল এলাকার বাসিন্দা ফারুকের মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি ওই এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
হায়দারের সঙ্গে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে কানা সিদ্দিক, সিদ্দিক, নাসির, মুক্তা ও বেটে রফিকের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।
মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে উল্লেখিত আসামিরা রামদা, ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দারের ঘরে প্রবেশ করে তার বুকের ডান ও বাম পাশে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে।
হায়দারের চিৎকার শুনে তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এগিয়ে এলে আসামিরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। এ সময় হায়দারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হায়দারের মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষণ পর তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকুও মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত হায়দারের ভাই তৈয়াব আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই বছরের ১৩ আগস্ট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।
এসএস/আরএন