গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নোবিপ্রবি উপাচার্যের কার্যালয়ে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। স্মারকে নোবিপ্রবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। অন্যদিকে ডিপিডিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।
পরে নোবিপ্রবির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে (আইকিউএসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও গবেষকদের অংশগ্রহণে 'Training on Patents Technology and Innovation Support Center (TISC) Services' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এ যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নোবিপ্রবির গবেষকেরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিভিন্ন উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা সহজতর হবে।
এ সময় প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং গবেষণাগার ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই এর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের ভিশনকে সামনে রেখে দ্রুতই নোবিপ্রবিতে ‘পেটেন্টস টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি)’ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অফিস ও জনবল প্রস্তুত করা হবে।”
প্রশিক্ষণ পর্বে উপাচার্য গবেষণার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (আইপি) সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গবেষণায় কারও মৌলিক অবদান যেন অন্য কেউ নিজের বলে দাবি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পেটেন্ট ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় এ সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের গবেষণাক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হলো। একই সঙ্গে গবেষকদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের আইনগত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে ডিপিডিটির মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহযোগিতা দিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কাজ করছে। এখানে টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে গবেষকেরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।”
নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং টিআইএসসির ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার নোবিপ্রবির গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন এবং শিল্প-নকশার জন্য পেটেন্ট বা ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, পেটেন্ট অনুসন্ধান এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে গবেষণাকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। এটি একাডেমিক গবেষণাকে বাস্তব ও অর্থনৈতিক সাফল্যে রূপান্তরের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও, এর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (WIPO) সঙ্গে নোবিপ্রবির গবেষকদের একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নোবিপ্রবির আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিপিডিটির উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেড (BNO Lubricants)-এর পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ। এছাড়াও টিআইএসসির সচিবালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাসহ নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/আরএন