সিনেমা হল থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে নিপুণ অভিনয় দক্ষতায় বিনোদনের খোরাক জোগানো ঢাকাই চলচ্চিত্রের গর্বিত এক অধ্যায় দিলদার। আজ ১৩ জুলাই, এই কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের আজকের এই দিনেই ৫৮ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কোটি কোটি ভক্ত ও দর্শককে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে যাত্রা করেন তিনি। মৃত্যুর পর রাজধানীর ডেমরার সানারপাড়ে পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয় তাকে।
১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামে জন্ম নেওয়া দিলদার শিক্ষাজীবনে এসএসসি পাসের পর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ইতি টানেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্ত্রীর নাম রোকেয়া বেগম এবং এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। ১৯৭২ সালে ঢাকাই চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও ১৯৭৫ সালের ‘কেন এমন হয়’ ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, নিজের অসামান্য দক্ষতায় তিনি হয়ে ওঠেন চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতা।
দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে পৌঁছেছিল যে, পরিচালকরা অনেক সময় শুধু তার জন্যই আলাদাভাবে স্ক্রিপ্ট তৈরি করতেন এবং তাকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনী পর্যন্ত লেখা হতো। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়লেও তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে তাকে মূল নায়ক করে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ নামের একটি সুপারহিট চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৩ সালে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি ‘সেরা কৌতুক অভিনেতা’ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ (১৯৮৯), ‘বিক্ষোভ’ (১৯৯৪), ‘অন্তরে অন্তরে’ (১৯৯৪), ‘কন্যাদান’ (১৯৯৫), ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ (১৯৯৬), ‘সুন্দর আলী জীবন সংসার’ (১৯৯৬), ‘স্বপ্নের নায়ক’ (১৯৯৭) ও ‘খাইরুন সুন্দরী’ (২০০২)-এর মতো অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের বিনোদিত করেছেন।
এসএ